সূর্য কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?

প্রতিদিন সকালে সূর্যকে উঠতে দেখি, আর দিনের শেষে তাকে অস্ত যেতে দেখি। কিন্তু সূর্য কি সবসময় এমনই ছিল? মহাকাশের বিশাল শূন্যতায় থাকা গ্যাস ও ধুলোর মেঘ থেকে কীভাবে এত বিশাল একটি নক্ষত্র তৈরি হলো? আর সূর্যের জন্মের সময় কি পৃথিবীও সেখানে ছিল? সূর্যের মতো নক্ষত্র সম্পর্কে আরও জানতে পড়ো: নক্ষত্র কীভাবে সৃষ্টি হয়? 
 ☀️ উত্তর: সূর্য প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে গ্যাস ও ধুলোর একটি বিশাল মেঘ থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। এই মেঘকে সৌর নীহারিকা (Solar Nebula) বলা হয়। 
🌌 ১. গ্যাস ও ধুলোর মেঘ: মহাকাশে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও বিভিন্ন ধূলিকণার বিশাল মেঘ ছিল। কোনো কারণে এই মেঘের একটি অংশ মহাকর্ষের প্রভাবে সংকুচিত হতে শুরু করে। 
🌀 ২. মেঘটি ঘুরতে থাকে: সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘটির ঘূর্ণন দ্রুত হতে থাকে এবং এটি একটি চ্যাপ্টা, ঘূর্ণায়মান চাকতির মতো আকার নেয়। 
🔥 ৩. কেন্দ্রে সূর্যের জন্ম: মেঘের অধিকাংশ পদার্থ কেন্দ্রে জমা হতে থাকে। মহাকর্ষের কারণে কেন্দ্রের চাপ ও তাপমাত্রা ক্রমে বাড়তে থাকে। একসময় কেন্দ্র এতটাই উত্তপ্ত ও ঘন হয়ে ওঠে যে নিউক্লীয় সংযোজন (Nuclear Fusion) শুরু হয়। 
⚡ ৪. সূর্য একটি নক্ষত্রে পরিণত হয়: নিউক্লীয় সংযোজনে হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তিই সূর্যকে আলো ও তাপ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। 
🪐 ৫. আশপাশের পদার্থ থেকে গ্রহ তৈরি হয়: সূর্য তৈরির পর তার চারপাশের ঘূর্ণায়মান চাকতিতে থাকা অবশিষ্ট ধুলো ও পাথুরে পদার্থ একত্রিত হয়ে ধীরে ধীরে গ্রহ, উপগ্রহ ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু তৈরি করে। পৃথিবীও এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত হয়। অর্থাৎ, সূর্য কোনো একদিন হঠাৎ জ্বলে ওঠেনি। মহাকর্ষের কারণে গ্যাস ও ধুলোর বিশাল মেঘ সংকুচিত হতে হতে কেন্দ্রে তাপ ও চাপ বাড়ায়, আর নিউক্লীয় সংযোজন শুরু হওয়ার পর সূর্য একটি পূর্ণাঙ্গ নক্ষত্রে পরিণত হয়। 

আরও পড়ো: 
-⁠বিগ ব্যাং কী? মহাবিশ্বের শুরু কীভাবে হয়েছিল? 
-⁠পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? 
-⁠মহাবিশ্বে গ্রহগুলো কীভাবে তৈরি হয়?
◉ 25 views · ♥ 0 · 💬 0 · ↗ 0

Comments (0)

No comments yet.

Login to comment.