মহাবিশ্বে গ্রহগুলো কীভাবে তৈরি হয়?
মহাবিশ্বে শুধু একটি নয়, অসংখ্য গ্রহ রয়েছে। কিছু গ্রহ পাথুরে, কিছু আবার বিশাল গ্যাসের তৈরি। কিন্তু মহাকাশের গ্যাস ও ধুলোর মতো ছোট ছোট পদার্থ কীভাবে একত্রিত হয়ে এত বড় একটি গ্রহে পরিণত হয়? আর একই নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা গ্রহগুলো কীভাবে নিজেদের আলাদা কক্ষপথে ঘুরতে শুরু করে?
গ্রহ তৈরির সঙ্গে নক্ষত্রের জন্মের সম্পর্ক জানতে পড়ো: সূর্য কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?
🪐 উত্তর:
গ্রহ সাধারণত একটি নতুন নক্ষত্রের চারপাশে থাকা গ্যাস, ধুলো ও ছোট ছোট পাথুরে কণার ঘূর্ণায়মান চাকতি থেকে তৈরি হয়। এই চাকতিকে প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক (Protoplanetary Disk) বলা হয়।
🌌 ১. ধুলো ও গ্যাসের চাকতি তৈরি:
একটি নক্ষত্র তৈরি হওয়ার সময় তার চারপাশে থাকা কিছু পদার্থ ঘূর্ণায়মান চাকতির মতো অবস্থায় থাকে।
🪨 ২. ছোট কণা একত্রিত হয়:
চাকতির ধুলো ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণাগুলো পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কখনো একে অপরের সঙ্গে আটকে যায়। ধীরে ধীরে এগুলো বড় হতে থাকে।
🌑 ৩. গ্রহীয় পিণ্ড তৈরি হয়:
কণাগুলো বড় হতে হতে প্ল্যানেটেসিমাল (Planetesimal) নামের বড় পাথুরে বা বরফময় বস্তুতে পরিণত হয়। এরপর মহাকর্ষ তাদের আরও বেশি পদার্থ আকর্ষণ করতে সাহায্য করে।
🪐 ৪. প্রোটোপ্ল্যানেট তৈরি হয়:
অনেকগুলো পিণ্ড একত্রিত হয়ে আরও বড় বস্তু তৈরি করে। এগুলোকে প্রোটোপ্ল্যানেট বলা হয়। সংঘর্ষ ও মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মাধ্যমে এগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ গ্রহে পরিণত হয়।
🌍 ৫. বিভিন্ন ধরনের গ্রহ তৈরি হয়:
নক্ষত্রের কাছাকাছি অঞ্চলে বেশি তাপ থাকায় সাধারণত পাথুরে পদার্থ দিয়ে বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গলের মতো পাথুরে গ্রহ তৈরি হয়। দূরের ঠান্ডা অঞ্চলে বরফ ও গ্যাস জমার সুযোগ বেশি থাকায় বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনের মতো বিশাল গ্রহ তৈরি হতে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব গ্রহ একইভাবে তৈরি হয় না এবং অন্য নক্ষত্রের চারপাশের গ্রহগুলোর গঠন ও বৈশিষ্ট্যও ভিন্ন হতে পারে।
সহজভাবে বললে:
গ্যাস ও ধুলোর মেঘ → নক্ষত্রের চারপাশে পদার্থের চাকতি → ছোট কণা → বড় পিণ্ড → প্রোটোপ্ল্যানেট → গ্রহ।
আরও পড়ো:

Comments (0)
Login to comment.