পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় গান: হাজার হাজার মানুষকে পাগল বানিয়ে দেওয়া "ব্লুপ"
১৯৯৭ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে মার্কিন সমুদ্র গবেষণা সংস্থা NOAA (National Oceanic and Atmospheric Administration) এক অদ্ভুত আওয়াজ রেকর্ড করে। শব্দটির নাম দেওয়া হয় 'ব্লুপ' (Bloop)। পানির প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার দূর থেকেও একাধিক হাইড্রোফোনে এই ভীতিজনক উচ্চমাত্রার শব্দ ধরা পড়েছিল।
বিজ্ঞানীদের মাথায় হাত—শব্দটি দেখতে কোনো সামুদ্রিক প্রাণীর ডাকের মতোই ছিল, কিন্তু পানির নিচে এত শক্তিশালী শব্দ করতে পারে এমন কোনো জানা প্রাণী পৃথিবীতে নেই! নীল তিমির চেয়েও অন্তত কয়েক গুণ বড় কোনো জীব ছাড়া এই আওয়াজ তৈরি করা অসম্ভব। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল—তবে কি সাগরের তলে জাগিয়ে তোলা হয়েছে রূপকথার কোনো ভয়ঙ্কর দানব, যা গভীর সমুদ্রের আসল "দৈত্য": ক্রাকেন কি আসলেই সত্যি? পোস্টের রহস্যকেও হার মানায়?
দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এটি ছিল অ্যান্টার্কটিকার বিশালাকার বরফখণ্ড ভেঙে যাওয়ার শব্দ (Icequake)। কিন্তু অনেক স্বাধীন গবেষক এখনও বিশ্বাস করেন, বরফ ভাঙার শব্দের চেয়ে ব্লুপ-এর ফ্রিকোয়েন্সি একদম আলাদা ছিল।
সাগরের অতলে আজও এমন বহু আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয় যা বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারেনি। হয়তো বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা বরফের নিচে ৪০০০ মিটার গভীরের এক অদৃশ্য শহর: লেক ভোস্টক-এর মতোই কোনো বিশাল সৃষ্টি এই আওয়াজ তৈরি করেছিল!

Comments (0)
Login to comment.