ব্যর্থতার ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা এক স্কুলছাত্রের পরিবর্তনের গল্প
📖 মঞ্চের আগে সেই এক মিনিট
ইহান নবম শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনায় সে ভালোই ছিল, কিন্তু সবার সামনে কথা বলতে গেলেই তার গলা শুকিয়ে যেত। ক্লাসে উত্তর জানা থাকলেও হাত তুলত না। শিক্ষক প্রশ্ন করলে মাথা নিচু করে থাকত।
একদিন স্কুলে আন্তঃশ্রেণি বক্তৃতা প্রতিযোগিতার ঘোষণা হলো। বাংলা শিক্ষক ইহানের নাম প্রতিযোগীদের তালিকায় লিখে দিলেন।
ইহান ভয় পেয়ে বলল,
“স্যার, আমি পারব না।”
শিক্ষক হেসে বললেন,
“তুমি পারবে কি না, সেটা এখনই জানার দরকার নেই। আগে চেষ্টা করে দেখো।”
ইহান বাড়ি ফিরে প্রতিযোগিতার কথা ভাবতে লাগল। তার মনে হচ্ছিল, মঞ্চে উঠে সবাই যদি হাসে? কথা ভুলে গেলে কী হবে?
পরদিন সে শিক্ষককে বলল,
“স্যার, আমি যদি ভুল করি?”
শিক্ষক বললেন,
“ভুল করলে আবার শুরু করবে। কিন্তু চেষ্টা না করলে নিজের সামর্থ্যটাই জানবে না।”
কথাটা ইহানের মনে রয়ে গেল।
📚 বন্ধ দরজার ওপাশে
প্রস্তুতির প্রথম দিন সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা পড়ল। মাত্র দুই মিনিট পরেই থেমে গেল।
দ্বিতীয় দিন আবার চেষ্টা করল।
তৃতীয় দিন নিজের বক্তব্য মোবাইলে রেকর্ড করে শুনল। নিজের কণ্ঠ শুনে সে বুঝতে পারল, কোথায় খুব দ্রুত কথা বলছে।
ধীরে ধীরে সে নিজের ভুলগুলো ঠিক করতে লাগল।
একদিন অনুশীলনের সময় কয়েকজন বন্ধু হাসাহাসি করল। ইহানের খুব খারাপ লাগল। সে প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিল যে প্রতিযোগিতা থেকে সরে যাবে।
কিন্তু শিক্ষক বললেন,
“আত্মবিশ্বাস মানে কখনো ভয় না পাওয়া নয়। ভয় থাকা সত্ত্বেও কাজটি করে যাওয়াই আত্মবিশ্বাস।”
ইহান আবার অনুশীলন শুরু করল।
📚 শেষ দৌড়
অবশেষে প্রতিযোগিতার দিন এল।
মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ইহানের বুক ধড়ফড় করছিল। তার হাত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল।
নাম ঘোষণা হলো।
ইহান মঞ্চে উঠল।
প্রথম কয়েক সেকেন্ড তার গলা কেঁপে গেল। তারপর সে গভীর শ্বাস নিল এবং শিক্ষকের কথা মনে করল।
“ভয় থাকা সত্ত্বেও কাজটি করে যাও।”
সে ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর তার ভয় কমে গেল।
বক্তৃতা শেষ হলে পুরো হলজুড়ে হাততালি পড়ল।
ইহান প্রথম হয়নি। সে দ্বিতীয় হয়েছে।
কিন্তু ফলাফল শোনার পর তার মুখে যে হাসি ফুটল, সেটি যেন প্রথম পুরস্কারের চেয়েও বড়।
📚 ভুল খাতার রহস্য
শিক্ষক তাকে বললেন,
“আজ তুমি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছ। কিন্তু নিজের ভয়কে প্রথমবার হারিয়েছ।”
সেদিনের পর ইহান আর সবকিছুতে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করত না। বরং চেষ্টা করার সাহসটাকে বেশি গুরুত্ব দিত।
ক্লাসে সে ধীরে ধীরে হাত তুলতে শুরু করল। ভুল উত্তর দিলেও আর লজ্জা পেত না।
সে বুঝেছিল, আত্মবিশ্বাস হঠাৎ করে আসে না। ছোট ছোট সাহসী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
💡 শিক্ষণীয় বিষয়
ব্যর্থতার ভয় অনেক সময় ব্যর্থতার চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভুল করার ভয় না পেয়ে চেষ্টা করতে শেখা, নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ধীরে ধীরে অনুশীলন করাই আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার বাস্তব পথ।

Comments (0)
Login to comment.