বন্ধ দরজার ওপাশে
স্কুলের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি ঘর বহু বছর ধরে বন্ধ ছিল। দরজায় মরিচা ধরা তালা এবং উপরে ধুলোমাখা একটি নম্বর লেখা ছিল—২০৭।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সামির প্রতিদিন ওই দরজার পাশ দিয়ে যেত। কিন্তু একদিন সে ভেতর থেকে মৃদু শব্দ শুনল।
ঠক... ঠক... ঠক...
সামির থেমে গেল।
পরদিনও একই সময়ে শব্দটি শোনা গেল।
কৌতূহল সামলাতে না পেরে সে তার বন্ধু নাঈমকে বলল। দুজন মিলে স্কুল ছুটির পর দরজাটির সামনে দাঁড়াল।
হঠাৎ আবার শব্দ।
ঠক... ঠক...
নাঈম ফিসফিস করে বলল, “ভেতরে কেউ আছে নাকি?”
তারা দারোয়ান কাদের চাচার কাছে গেল। অনেক অনুরোধের পর তিনি পুরোনো চাবির গোছা নিয়ে এলেন।
তৃতীয় চাবিতেই তালা খুলে গেল।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই ধুলোর গন্ধে সবাই কাশতে শুরু করল।
ঘরের এক পাশে ভাঙা বেঞ্চ, পুরোনো মানচিত্র আর কাঠের আলমারি। কিন্তু কোনো মানুষ নেই।
তাহলে শব্দটা হচ্ছিল কোথা থেকে?
সামির ভালো করে তাকিয়ে দেখল, জানালার পাশে একটি পুরোনো কাঠের বাক্স নড়ছে।
বাক্স খুলতেই তারা অবাক হয়ে গেল।
ভেতরে আটকে আছে একটি ছোট শালিক পাখি। জানালার ভাঙা অংশ দিয়ে ঢুকে সেটি বের হতে পারেনি। ডানা ঝাপটাতে গিয়েই বাক্সের গায়ে বারবার আঘাত করছিল।
সামির সাবধানে পাখিটিকে হাতে তুলে জানালার কাছে নিয়ে গেল।
মুহূর্তের মধ্যেই শালিকটি আকাশে উড়ে গেল।
নাঈম হেসে বলল, “আমরা তো ভেবেছিলাম ভেতরে বড় কোনো রহস্য আছে!”
কাদের চাচা বললেন, “রহস্য বড় না ছোট, সেটা দূর থেকে বোঝা যায় না। জানতে হলে দরজা খুলতে হয়।”
সামির কিছুক্ষণ বন্ধ দরজাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
সেদিন সে বুঝেছিল, ভয়ের কারণে অনেক দরজা আমরা বন্ধই রেখে দিই। অথচ সাহস করে খুললে ওপাশে হয়তো ভয় নয়, অপেক্ষা করে থাকে সত্য।

Comments (0)
Login to comment.