Stories
04 Aug 2026, 10:09 AM
Story

সময়ের মূল্য: অলস ছাত্রের সফল হওয়ার গল্প

সময় পৃথিবীর একমাত্র সম্পদ, যা একবার চলে গেলে আর কখনো ফিরে আসে না। টাকা হারালে তা আবার উপার্জন করা যায়, হারানো জিনিসও অনেক সময় ফিরে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া একটি মিনিটও কোনো মূল্যে ফেরত আনা যায় না। এই সত্যটি অনেকেই বুঝতে পারে দেরিতে। তেমনই একজন ছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরিয়ান।

আরিয়ান ছিল মেধাবী। শিক্ষকরা বলতেন, “ছেলেটা মন দিয়ে পড়লে অনেক দূর যেতে পারবে।” কিন্তু তার একটি বড় সমস্যা ছিল—সে সব কাজ পরে করার অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে ভাবত, “আজ একটু বিশ্রাম নিই, রাতে পড়ব।” রাতে আবার বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, মোবাইলে ভিডিও দেখা কিংবা গেম খেলতে খেলতেই সময় কেটে যেত। পড়ার টেবিলে বসার আগেই ঘুম চলে আসত।

এভাবেই একদিন, দুইদিন, এক সপ্তাহ, এক মাস কেটে গেল।

বাড়ির কাজ অসম্পূর্ণ থাকত। পরীক্ষার আগে তাড়াহুড়ো করে পড়তে বসত। ফলে অনেক বিষয়ই ঠিকমতো বুঝতে পারত না। প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন সে নিজের নাম অনেক নিচে দেখে হতবাক হয়ে গেল।

বন্ধুরা ভালো ফল করলেও আরিয়ানের মুখে কোনো হাসি ছিল না।

সেদিন শ্রেণিশিক্ষক তার পাশে এসে শান্তভাবে বললেন,

— “তুমি অযোগ্য নও, কিন্তু সময়কে অবহেলা করছ। সফল মানুষ আর ব্যর্থ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো সময়ের ব্যবহার।”

এই কথাগুলো আরিয়ানের মনে গভীরভাবে দাগ কাটল।

সেদিন রাতে সে নিজের ঘরে বসে অনেকক্ষণ ভাবল। সে বুঝতে পারল, আসলে সে পড়াশোনায় দুর্বল নয়; দুর্বল ছিল তার অভ্যাস।

পরদিন থেকে সে একটি নতুন সিদ্ধান্ত নিল।

সে একটি ছোট্ট সময়সূচি তৈরি করল। সকালে আধা ঘণ্টা আগেভাগে উঠতে শুরু করল। স্কুল থেকে ফিরে প্রথমে বিশ্রাম নিত, তারপর নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করত। মোবাইল ব্যবহারের জন্যও নির্দিষ্ট সময় ঠিক করল।

প্রথম কয়েকদিন খুব কঠিন লাগছিল। মাঝে মাঝে আবার আগের মতো অলস হতে ইচ্ছা করত। কিন্তু সে নিজেকে মনে করিয়ে দিত—

“আজকের কাজ কাল নয়, আজই শেষ করব।”

একদিন তার বন্ধু রিফাত তাকে খেলতে ডাকল।

— “চল, আজ অনেকক্ষণ ক্রিকেট খেলি।”

আরিয়ান হাসিমুখে বলল,

— “আমি আধা ঘণ্টা পরে আসছি। আগে আজকের পড়া শেষ করি।”

বন্ধু অবাক হয়ে বলল,

— “তুই তো অনেক বদলে গেছিস!”

আরিয়ান শুধু হেসে উত্তর দিল।

দিনগুলো ধীরে ধীরে বদলাতে লাগল। প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়ার ফলে কঠিন বিষয়ও সহজ মনে হতে লাগল। ক্লাসে শিক্ষক প্রশ্ন করলে সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিতে পারত।

আরও পড়ো: বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ: দুই বন্ধুর বাস্তবধর্মী গল্প

কয়েক মাস পর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলো।

এবার আরিয়ানের কোনো ভয় ছিল না। কারণ শেষ মুহূর্তে পড়ার বদলে সে পুরো বছর নিয়মিত প্রস্তুতি নিয়েছিল।

ফল প্রকাশের দিন পুরো স্কুলে আনন্দের পরিবেশ।

আরিয়ান এবার শ্রেণির প্রথম পাঁচজনের মধ্যে স্থান পেল।

তার বাবা-মায়ের চোখে আনন্দের জল। শিক্ষক গর্বের সঙ্গে বললেন,

— “দেখেছো? ভাগ্য বদলায়নি, বদলেছে তোমার অভ্যাস।”

আরিয়ান বুঝতে পারল, সফলতার কোনো শর্টকাট নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট সঠিক সিদ্ধান্তই একদিন বড় সাফল্যে পরিণত হয়।

এরপর সে শুধু নিজের পড়াশোনাতেই মনোযোগ দেয়নি; যেসব বন্ধু পড়া ফেলে রাখত, তাদেরও সময়ের মূল্য বোঝাতে শুরু করল। সে বলত,

“অলসতা আজকে আনন্দ দেয়, কিন্তু আগামীকাল অনুশোচনা এনে দেয়। আর নিয়মিত পরিশ্রম আজ একটু কষ্ট দিলেও ভবিষ্যৎকে সুন্দর করে।”

তার এই পরিবর্তনে পুরো শ্রেণিতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ল। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো পড়াশোনা শুরু করল। শিক্ষকরা লক্ষ্য করলেন, শুধু একজন ছাত্র নয়, একটি পুরো দলই বদলে যাচ্ছে।

আরও পড়ো: ছোট্ট পাখির বড় স্বপ্ন: অধ্যবসায়ের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

একদিন বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বললেন,

“সফলতার শুরু হয় ঘড়ির কাঁটা দেখে নয়, নিজের দায়িত্ব সময়মতো পালন করার মাধ্যমে।”

এই কথাটি শুনে আরিয়ান নিজের প্রথম দিনের কথা মনে করল। যদি সেদিন সে নিজের ভুল স্বীকার না করত, তাহলে হয়তো আজকের এই সাফল্যও আসত না।

সে উপলব্ধি করল, সময় কখনো কারও জন্য অপেক্ষা করে না। যে সময়কে সম্মান করে, সময়ও একদিন তাকে সম্মানিত করে।

আরও পড়ো: এক গাছের আত্মকথা: পরিবেশ রক্ষার শিক্ষণীয় গল্প

আরও পড়ো: 📖 সততার পুরস্কার: একটি ছোট্ট সত্য কীভাবে বদলে দিল এক শিক্ষার্থীর জীবন

শিক্ষণীয় বিষয়

- সময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
- অলসতা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়।
- প্রতিদিনের নিয়মিত পরিশ্রমই বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।
- আজকের কাজ আজই শেষ করার অভ্যাস একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাসী ও সফল করে তোলে।
- নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করলে জীবনও পরিবর্তন হতে পারে।

◉ 11 views · ♥ 0 · 💬 0 · ↗ 0

Comments (0)

No comments yet.

Login to comment.