Stories
18 Aug 2026, 12:27 AM
Story

রাতের বাঁশবাগানে সেই আলো

গ্রামের পশ্চিম পাশে বিশাল একটি বাঁশবাগান। দিনের বেলায় জায়গাটি শান্ত হলেও রাত নামলেই কেউ সেখানে যেতে চাইত না।

কারণ কয়েক রাত ধরে বাঁশবাগানের ভেতর একটি অদ্ভুত আলো দেখা যাচ্ছিল।

কখনো আলোটি স্থির থাকত। আবার কখনো ধীরে ধীরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেত।

এক রাতে নবম শ্রেণির ছাত্র সায়ান জানালার পাশে পড়ছিল। হঠাৎ দূরের বাঁশবাগানের দিকে তাকিয়ে সে আলোটি দেখতে পেল।

“আজ রহস্যটা জানতেই হবে,” মনে মনে বলল সে।

একটি টর্চ নিয়ে সে তার বন্ধু মাহিনকে ডাকল। দুজন সাহস করে বাঁশবাগানের দিকে এগোল।

চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাতাসে বাঁশগুলো একে অন্যের সঙ্গে ঘষা খেয়ে কড়কড় শব্দ করছে।

হঠাৎ মাহিন সায়ানের হাত চেপে ধরল।

“ওই দেখ!”

কিছু দূরে আবার সেই আলো।

আলোটি এবার নড়ছে।

সায়ান টর্চ বন্ধ করে ধীরে ধীরে এগোল। একটু পর তারা মাটিতে কিছু অদ্ভুত চিহ্ন দেখতে পেল। কাদার ওপর ছোট ছোট পায়ের ছাপ।

পায়ের ছাপ অনুসরণ করে তারা বাঁশবাগানের গভীরে পৌঁছাল।

সেখানে একটি পুরোনো কুঁড়েঘর।

ভেতর থেকে ক্ষীণ আলো বের হচ্ছে।

সায়ান সাহস করে দরজা ঠেলে দিল।

দরজা খুলতেই দুজন অবাক হয়ে গেল।

ভেতরে বসে আছে তাদের গ্রামের বৃদ্ধ শিক্ষক হাশেম স্যার। সামনে একটি চার্জের বাতি। চারপাশে কয়েকটি আহত পাখি ও দুটি ছোট শিয়ালের বাচ্চা।

“স্যার!”

হাশেম স্যার মৃদু হেসে বললেন, “ভয় পেয়েছ?”

তিনি জানালেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বাঁশবাগানে ফাঁদে আটকে থাকা একটি পাখিকে উদ্ধার করেছিলেন। এরপর থেকে রাতে এখানে এসে আহত বন্য প্রাণীদের চিকিৎসা করেন। দিনের বেলায় মানুষ ভিড় করলে প্রাণীগুলো ভয় পাবে বলে তিনি কাউকে কিছু বলেননি।

আর যে আলোটি গ্রামের মানুষ দেখত, সেটি ছিল তাঁর চার্জের বাতি।

মাহিন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলল, “আমরা তো ভাবছিলাম এখানে কোনো ভূত আছে!”

হাশেম স্যার হেসে বললেন, “অন্ধকারে অজানা জিনিসকে মানুষ খুব সহজেই ভয়ংকর কিছু মনে করে।”

পরদিন সায়ান ও মাহিন কাউকে ভয়ের গল্প শোনাল না। বরং কয়েকজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে নিয়ে হাশেম স্যারকে সাহায্য করতে শুরু করল।

তারপর থেকে রাতের বাঁশবাগানে সেই আলো মাঝে মাঝেই জ্বলত।

কিন্তু সায়ান আর সেটিকে রহস্যময় আলো মনে করত না।

তার কাছে সেটি হয়ে উঠেছিল মমতা আর ভালোবাসার আলো।

◉ 37 views · ♥ 0 · 💬 0 · ↗ 0

Comments (0)

No comments yet.

Login to comment.