পুরোনো ঘড়ির শব্দ
গ্রামের পুরোনো বাড়িটিতে কেউ আর থাকত না। বাড়ির দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে, জানালার কাচ ভাঙা এবং উঠানের ঘাস কোমর পর্যন্ত বড় হয়ে গেছে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তানভীর ছোটবেলা থেকেই বাড়িটা নিয়ে অনেক গল্প শুনেছে। গ্রামের মানুষ বলত, গভীর রাতে বাড়িটির ভেতর থেকে একটি পুরোনো ঘড়ির শব্দ শোনা যায়।
টিক... টিক... টিক...
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বাড়িটিতে নাকি কোনো ঘড়িই নেই।
এক সন্ধ্যায় তানভীর তার বন্ধু শাওনকে নিয়ে রহস্যটা খুঁজতে গেল।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই ধুলোর গন্ধ নাকে এল। মেঝেতে শুকনো পাতা আর ভাঙা কাঠ ছড়িয়ে আছে।
হঠাৎ শাওন ফিসফিস করে বলল,
“শুনতে পাচ্ছিস?”
দুজন চুপ হয়ে গেল।
টিক... টিক... টিক...
শব্দটা আসছে ওপরতলা থেকে।
তারা ধীরে ধীরে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল। একটি বন্ধ ঘরের সামনে এসে শব্দটা আরও স্পষ্ট হলো।
তানভীর দরজা খুলতেই তারা অবাক হয়ে গেল।
ঘরের দেয়ালে ঝুলছে বিশাল একটি পুরোনো ঘড়ি।
কিন্তু ঘড়িটির কাঁটা আটকে আছে ঠিক রাত আটটা পনেরো মিনিটে।
তবু ভেতর থেকে শব্দ হচ্ছে।
তানভীর ঘড়িটির নিচে একটি ছোট কাঠের বাক্স দেখতে পেল। বাক্স খুলে তারা একটি পুরোনো চিঠি পেল।
চিঠিটি ছিল বাড়ির সাবেক মালিক আবদুল করিমের লেখা।
তিনি লিখেছিলেন,
“এই ঘড়িটি আমার ছেলের শেষ উপহার। যত দিন এর শব্দ শুনবে, মনে রেখো, সময়কে অবহেলা কোরো না। চলে যাওয়া সময় আর ফিরে আসে না।”
তানভীর কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
পরে জানা গেল, ঘড়িটির কাঁটা নষ্ট হলেও ভেতরের পুরোনো যন্ত্রটি এখনও মাঝে মাঝে চলত। সেই কারণেই রাতে টিকটিক শব্দ শোনা যেত।
গ্রামের মানুষের কাছে যে শব্দ ছিল ভয়ের, তানভীরের কাছে সেটিই হয়ে গেল একটি শিক্ষা।
সেদিন থেকে সে পড়াশোনা, পরিবার আর নিজের কাজের সময়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করল।
কারণ পুরোনো ঘড়িটি তাকে একটি কথাই শিখিয়েছিল—
সময় থেমে থাকে না। তাই সময় থাকতে সঠিক কাজটি করে ফেলাই সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ।

Comments (0)
Login to comment.