পরিত্যক্ত বাড়ির জানালায় আলো

তানভীরদের গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি পুরোনো বাড়ি ছিল। বহু বছর ধরে সেখানে কেউ থাকত না। বাড়িটির জানালা-দরজা ভাঙা, উঠানে আগাছা আর চারপাশে বড় বড় গাছ।
গ্রামের সবাই বাড়িটিকে এড়িয়ে চলত।
কারণ রাত হলেই নাকি ওপরতলার একটি জানালায় মৃদু আলো দেখা যেত।
তানভীর ভূতের গল্পে খুব একটা বিশ্বাস করত না। কিন্তু এক সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সত্যিই সে জানালায় আলো দেখতে পেল।
বন্ধু রাফি ভয় পেয়ে বলল,
“চল, এখান থেকে যাই!”
তানভীরও ভয় পেয়েছিল। কিন্তু তার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছিল—পরিত্যক্ত বাড়িতে আলো আসে কোথা থেকে?
পরদিন স্কুল ছুটির পর সে বিষয়টি বিজ্ঞান শিক্ষককে বলল।
শিক্ষক বললেন,
“রহস্যের উত্তর খুঁজতে হলে আগে প্রমাণ খুঁজতে হয়। তবে পরিত্যক্ত বাড়িতে একা ঢুকবে না।”
তানভীর রাফি ও একজন বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িটির বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ শুরু করল।
তারা দেখল, বাড়ির পাশের একটি বৈদ্যুতিক তার ভাঙা জানালার কাছে গিয়ে ঢুকেছে।
আরও অবাক করার বিষয়—বাড়ির পেছনে একটি পুরোনো বিদ্যুৎ মিটার এখনো লাগানো।
তারা সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে না ঢুকে স্থানীয় বিদ্যুৎকর্মীকে খবর দিল।
কিছুক্ষণ পর তিনি এসে পরীক্ষা করে দেখলেন, পুরোনো তারের একটি অংশ পাশের বাড়ির সংযোগের সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হয়ে আছে। সন্ধ্যার পর পাশের বাড়ির বাতি জ্বললে সেই বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে পুরোনো বাড়ির ওপরতলার একটি বাতিও ক্ষীণভাবে জ্বলে উঠত।
রহস্যের সমাধান হয়ে গেল।
তানভীর হাসল।
রাফি বলল,
“তাহলে এতদিন আমরা ভূতের গল্প শুনছিলাম!”
তানভীর বলল,
“গল্পটা ছিল ভয়ের। কিন্তু আসল ঘটনাটা ছিল বিদ্যুতের।”
পরদিন গ্রামের সবাইকে ঘটনাটি জানানো হলো। পুরোনো বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপদভাবে বিচ্ছিন্ন করা হলো।
তানভীর বুঝল, অজানা কোনো ঘটনাকে রহস্যময় মনে হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সত্য জানতে হলে ভয়ের কাছে হার মানলে চলবে না।
💡 শিক্ষণীয় বিষয়
গুজব বা ভয়ের গল্প শুনে কোনো ঘটনা সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। পর্যবেক্ষণ, যুক্তি ও নিরাপদভাবে প্রমাণ খোঁজার মাধ্যমে সত্য জানা যায়। তবে বিপজ্জনক বা পরিত্যক্ত স্থানে অনুসন্ধান করার সময় অবশ্যই বড়দের সাহায্য নিতে হবে।

Comments (0)
Login to comment.