Stories
18 Aug 2026, 12:06 AM
Story

পরিবারের কঠিন সময়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এক কিশোরীর সাহস ও সাফল্যের গল্প

📖 কুপির আলোয় শেষ অধ্যায়

মায়া নবম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনায় তার খুব আগ্রহ। বড় হয়ে সে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তার পরিবারের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গেল।

বাবার ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারে টান পড়ল। মায়েরও অসুস্থতার কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বাড়ির খরচ চালাতেই যখন কষ্ট হচ্ছিল, তখন মায়ার মনে হলো, তার পড়াশোনা হয়তো আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

এক রাতে সে মাকে বলল,

“মা, আমি কি কিছুদিন স্কুলে না গিয়ে তোমাকে সাহায্য করব?”

মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

“সংসারের কষ্ট আছে বলে তোমার স্বপ্নটা বন্ধ হয়ে যাবে কেন?”

কথাটা মায়ার মনে গভীরভাবে গেঁথে গেল।

সে সিদ্ধান্ত নিল, পড়াশোনা চালিয়ে যাবে এবং পাশাপাশি বাড়ির কাজে যতটা সম্ভব সাহায্য করবে।

কিন্তু সমস্যা ছিল আরেকটি।

বেশিরভাগ রাতে বিদ্যুৎ থাকত না। মায়া তখন ছোট একটি কুপির আলো জ্বেলে পড়ত।

📚 পরীক্ষার খাতা

কখনো চোখ জ্বালা করত, কখনো ঘুম পেত। তবুও সে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়ত।

স্কুলের শিক্ষকরা তার পরিস্থিতি জানতে পেরে তাকে অতিরিক্ত বই ও পড়াশোনার পরামর্শ দিলেন। মায়া লাইব্রেরিতে বেশি সময় কাটাতে শুরু করল।

একদিন পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সে একটি কঠিন অধ্যায় বুঝতে পারছিল না। হতাশ হয়ে বই বন্ধ করে দিল।

তার শিক্ষক বললেন,

“কঠিন সময়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দিলে সমস্যা ছোট হয় না। বরং তোমার ভবিষ্যতের একটি দরজা বন্ধ হয়ে যায়।”

মায়া আবার বই খুলল।

📚 ভুল খাতার রহস্য

সে বুঝেছিল, পরিস্থিতি তার হাতে নেই। কিন্তু পরিস্থিতির মধ্যে সে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তার নিজের হাতে।

মাসের পর মাস সে পড়াশোনা চালিয়ে গেল।

অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো।

মায়া শুধু ভালো ফলই করল না, সে বৃত্তিও পেল।

বৃত্তির খবর শুনে তার বাবা অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলেন। তারপর বললেন,

“তুই আমাদের কঠিন সময়ে আশা হারাতে দিসনি।”

মায়া হাসল।

তার মনে হলো, কুপির সেই ছোট আলো শুধু তার বইয়ের পাতাই আলোকিত করেনি। সেই আলো তার স্বপ্নটাকেও বাঁচিয়ে রেখেছিল।

📚 প্রতিদিন একটু ভালো: সায়েমের বদলে যাওয়ার গল্প

💡 শিক্ষণীয় বিষয়
জীবনে কঠিন সময় আসতেই পারে। সব পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও নিজের চেষ্টা, সিদ্ধান্ত ও মনোভাব অনেকটাই নিজের হাতে থাকে। পরিবারে সমস্যা থাকলে সাহায্য করা জরুরি, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথও যতটা সম্ভব ধরে রাখা উচিত।

◉ 5 views · ♥ 0 · 💬 0 · ↗ 0

Comments (0)

No comments yet.

Login to comment.