পঞ্চম শ্রেণির বাংলা: পাঠ ২০ ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার প্রশ্ন উত্তর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

📘 পাঠ ২০: শিক্ষাগুরুর মর্যাদা
কবি: কাজী কাদের নেওয়াজ
⭐ এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
→ কবিতাটির নাম: শিক্ষাগুরুর মর্যাদা।
→ কবি: কাজী কাদের নেওয়াজ।
→ কবিতায় বাদশাহ আলমগীরের শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পেয়েছে।
→ বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে দিল্লির একজন মৌলভী পড়াতেন।
→ একদিন বাদশাহ দেখলেন তাঁর পুত্র শিক্ষকের পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে।
→ শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পা ধুয়ে পরিষ্কার করছিলেন।
→ এ দৃশ্য দেখে শিক্ষক ভয় পেয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন বাদশাহ হয়তো তাঁর ওপর রাগ করেছেন।
→ কিন্তু বাদশাহ রাগ করেননি। বরং তিনি মনে করেছিলেন তাঁর ছেলে গুরুর প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখায়নি।
→ বাদশাহ চেয়েছিলেন তাঁর ছেলে শুধু পানি ঢালবে না, নিজের হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে দেবে।
→ বাদশাহর কথা শুনে শিক্ষক অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত হন।
→ কবিতাটির মূল শিক্ষা হলো শিক্ষকের মর্যাদা অনেক বড় এবং শিক্ষককে সর্বদা শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হয়।
→ শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় বাদশাহ আলমগীরের উদারতা ও মহানুভবতা এই কবিতার প্রধান বিষয়।
🔵 ১. শব্দগুলোকে পরিবর্তন করে লিখি
→ পড়াইত = পড়াত
→ গিয়া = গিয়ে
→ নিয়া = নিয়ে
→ ঢালিতেছে = ঢালছে
→ ভাবিলেন = ভাবলেন
→ দিয়া = দিয়ে
→ করিছেন = করেছেন
→ ভাবিলেন = ভাবলেন
→ লইয়াছি = নিয়েছি
→ ভাবিতে ভাবিতে = ভাবতে ভাবতে
→ কহিলেন = বললেন
→ শিখিয়াছে = শিখেছে
→ দেখিলাম = দেখলাম
→ বুঝিতে = বুঝতে
→ বলিতে = বলতে
→ বুলাইয়া = বুলিয়ে
বিশেষ কথা: কবিতায় ব্যবহৃত “লইয়াছে” শব্দের আধুনিক রূপ হলো “নিয়েছে”।
🔵 ২. কবিতার লাইনকে গদ্য ভাষায় লিখি:
ক. কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবি দিল্লির।
উত্তর: তাঁর কুমারকে দিল্লির এক মৌলবি পড়াতেন।
খ. শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে।
উত্তর: শাহজাদা হাতে একটি পাত্র নিয়ে গুরুর পায়ে পানি ঢালছিলেন।
গ. ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে।
উত্তর: গুরুর পায়ে পানি ঢালছে।
ঘ. ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিলো তাঁর ভালে।
উত্তর: ভাবতে ভাবতে তাঁর কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিল।
ঙ. বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
উত্তর: বাদশাহর দূত শিক্ষককে ডেকে কেল্লায় নিয়ে গেল।
চ. পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
উত্তর: আমার ছেলে কি আপনার কাছে কিছু ভদ্রতা ও সৌজন্য শিখেছে?
ছ. পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
উত্তর: আমার ছেলে শুধু পানি ঢেলে আপনার পা ভিজিয়েছে।
🔵 ৩. যুক্তবর্ণ ভেঙে লিখি, দুটি করে শব্দ বানাই এবং একটি করে বাক্য তৈরি করি
⭐ স্ত = স্ + ত
→ শব্দ: আস্ত, জলহস্তি
→ বাক্য: চিড়িয়াখানায় একটি বড় জলহস্তি আছে।
⭐ ঞ্চ = ঞ্ + চ
→ শব্দ: অঞ্চল, কঞ্চি
→ বাক্য: আমাদের অঞ্চলটি খুব সুন্দর।
⭐ স্প = স্ + প
→ শব্দ: স্পষ্ট, স্পর্শ
→ বাক্য: শিক্ষক বিষয়টি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন।
⭐ ষ্ঠ = ষ্ + ঠ
→ শব্দ: ষষ্ঠ, ওষ্ঠ
→ বাক্য: রাহিম ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
⭐ স্ত্র = স্ + ত্ + র
→ শব্দ: অস্ত্র, বস্ত্র
→ বাক্য: আমাদের পরিষ্কার বস্ত্র পরা উচিত।
⭐ ক্ষ = ক্ + ষ
→ শব্দ: অক্ষর, পরীক্ষা
→ বাক্য: বাংলা ভাষায় অনেক সুন্দর অক্ষর আছে।
⭐ র্ণ = র্ + ণ
→ শব্দ: পূর্ণ, চূর্ণ
→ বাক্য: আজ পূর্ণিমার চাঁদ পূর্ণ হয়েছে।
🔵 ৪. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি
⭐ ক. বাদশাহ আলমগীর একদিন সকালে কী দেখলেন?
উত্তর: একদিন সকালে বাদশাহ আলমগীর দেখলেন, তাঁর পুত্র শাহজাদা হাতে একটি পাত্র নিয়ে শিক্ষকের পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে। আর শিক্ষক নিজের হাত দিয়ে নিজের পা ধুয়ে পরিষ্কার করছেন।
⭐ খ. বাদশাহর ছেলে পানি ঢেলে দেওয়ার সময় শিক্ষক কী করছিলেন?
উত্তর: বাদশাহর ছেলে যখন শিক্ষকের পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছিল, তখন শিক্ষক নিজের হাত দিয়ে নিজের পা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছিলেন।
⭐ গ. শিক্ষক কেন ভয় পেলেন?
উত্তর: শিক্ষক ভাবলেন, বাদশাহর পুত্র তাঁর পায়ে পানি ঢেলে দিয়েছে দেখে বাদশাহ হয়তো রাগ করেছেন। তিনি মনে করলেন, রাজপুত্রকে দিয়ে নিজের পায়ে পানি ঢালানো বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই বাদশাহ তাঁকে শাস্তি দিতে পারেন ভেবে তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
⭐ ঘ. শিক্ষক কী ভেবে মনে সাহস পেলেন?
উত্তর: শিক্ষক ভাবলেন, তিনি একজন শিক্ষক এবং শিক্ষকের মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে। প্রয়োজনে তিনি বাদশাহকে শাস্ত্রের কথা বুঝিয়ে বলবেন। প্রাণ চলে গেলেও নিজের সম্মান ও শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করবেন। এই কথা ভেবেই তিনি মনে সাহস পেলেন।
⭐ ঙ. শিক্ষকের উচ্ছ্বাসের কারণ কী?
উত্তর: বাদশাহ আলমগীর শিক্ষককে শাস্তি না দিয়ে বরং নিজের ছেলের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে শুধু পানি ঢেলে শিক্ষকের পা ভিজিয়েছে, কিন্তু নিজের হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে দেয়নি। বাদশাহর এই গভীর শিক্ষকভক্তি ও শ্রদ্ধাবোধ দেখে শিক্ষক অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত হন। তাই তিনি উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বাদশাহকে মহান ও উদার বলে প্রশংসা করেন।
🔵 ৫. কবিতাটি আবৃত্তি করি
→ কবিতাটি শুদ্ধ উচ্চারণে, যথাযথ বিরতি ও আবেগের সঙ্গে আবৃত্তি করতে হবে।
→ কঠিন শব্দগুলোর উচ্চারণ আগে শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
→ কবিতার অর্থ বুঝে আবৃত্তি করলে আবৃত্তি আরও সুন্দর হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সহায়তায় কাজটি করবে।

Comments (0)
Login to comment.