নিখোঁজ বিজ্ঞান মডেলের রহস্য
স্কুলের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। নবম শ্রেণির ছাত্র নাবিল আর তার দুই বন্ধু তৃষা ও আদনান অনেক দিন ধরে একটি সৌরশক্তিচালিত ছোট বাড়ির মডেল তৈরি করেছিল। মডেলটির ছাদে ছোট সৌরপ্যানেল বসানো ছিল। সূর্যের আলো পড়লেই ঘরের ভেতরের বাতি জ্বলে উঠত।
বিকেলে তারা মডেলটি বিজ্ঞানাগারের টেবিলে রেখে বাড়ি চলে গেল।
পরদিন সকালে স্কুলে এসে নাবিল অবাক হয়ে দেখল, টেবিলটি খালি।
“আমাদের মডেল কোথায়?” আতঙ্কিত হয়ে বলল সে।
তৃষা চারদিকে খুঁজে দেখল। জানালা বন্ধ। দরজার তালাও ভাঙা নয়।
আদনান বলল, “তাহলে নিশ্চয়ই স্কুলের কেউ নিয়েছে।”
তারা মেঝেতে ভালো করে তাকিয়ে একটি অদ্ভুত জিনিস দেখতে পেল। টেবিলের পাশে কয়েক ফোঁটা নীল রঙ পড়ে আছে। আর দরজার কাছে ছিল ছোট একটি তারের টুকরো।
তৃষা বলল, “কাল মডেলটিতে তো আমরা নীল রঙ ব্যবহার করিনি!”
তিন বন্ধু সূত্র ধরে স্কুলের করিডোর দিয়ে এগোল। সিঁড়ির কাছে আবার নীল রঙের দাগ দেখা গেল। দাগগুলো শেষ হয়েছে পুরোনো স্টোররুমের সামনে।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই তারা একটি মৃদু শব্দ শুনল।
“টিক... টিক... টিক...”
নাবিল তাকিয়ে দেখল, এক কোণে তাদের বিজ্ঞান মডেলটি রাখা। পাশে বসে আছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাফি। তার হাতে স্ক্রু-ড্রাইভার।
“তুমি আমাদের মডেল এখানে এনেছ?” নাবিল জিজ্ঞেস করল।
রাফির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সে নিচু গলায় বলল, “আমি চুরি করতে চাইনি। গতকাল মডেলটি দেখতে এসে ভুল করে একটি তার ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। খুব ভয় পেয়েছিলাম। তাই রাতে স্কুলের দারোয়ান চাচার অনুমতি নিয়ে মডেলটি এখানে এনে ঠিক করার চেষ্টা করছিলাম।”
ঠিক তখন বিজ্ঞান শিক্ষক সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।
সব কথা শুনে তিনি রাগ করলেন না। বললেন, “ভুল করা অপরাধ নয়। কিন্তু ভুল লুকানোর চেষ্টা করলে সমস্যা আরও বড় হয়।”
রাফি মাথা নিচু করে ক্ষমা চাইল।
নাবিল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “চলো, সবাই মিলে মডেলটা ঠিক করি।”
চারজন মিলে এক ঘণ্টার মধ্যেই ছেঁড়া তার জোড়া লাগাল। বিজ্ঞান মেলায় তাদের মডেলটি শুধু প্রথম পুরস্কারই পেল না, বিচারকেরা বিশেষভাবে প্রশংসা করলেন তাদের দলগত কাজের জন্য।
পুরস্কার হাতে নিয়ে নাবিল হাসল।
একটি নিখোঁজ বিজ্ঞান মডেলের রহস্য শেষ পর্যন্ত তাদের শিখিয়েছিল, সত্য স্বীকার করার সাহস আর একসঙ্গে সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতাই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Comments (0)
Login to comment.