মহাকাশে গ্রহাণু কেন ঘুরে বেড়ায়?
মহাকাশে তাকালে আমরা গ্রহ, উপগ্রহ ও নক্ষত্রের কথা শুনি। কিন্তু গ্রহাণুরাও যেন থেমে নেই—তারা নির্দিষ্ট পথে মহাকাশে ছুটে চলেছে। এত বিশাল শূন্য জায়গায় কোনো গ্রহাণু কেন এক জায়গায় স্থির থাকে না? কে তাদের চলতে বাধ্য করে, আর তাদের পথই বা কীভাবে ঠিক হয়?
গ্রহাণু নিয়ে আরও জানতে পড়ো: গ্রহাণু ও উল্কার মধ্যে পার্থক্য কী?
🪐 উত্তর:
গ্রহাণুগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ানোর প্রধান কারণ হলো মহাকর্ষ বল (Gravity) এবং তাদের নিজস্ব গতিশক্তি।
গ্রহাণুগুলো মূলত সূর্যকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে ঘোরে। সূর্যের প্রচণ্ড মহাকর্ষ বল গ্রহাণুগুলোকে নিজের দিকে টানে। একই সময়ে গ্রহাণুগুলোর সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতি থাকে। এই দুইয়ের সমন্বয়ের ফলে তারা সরাসরি সূর্যের দিকে পড়ে না গিয়ে বাঁকা পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে।
এটি অনেকটা দড়িতে বাঁধা একটি বল ঘোরানোর মতো। বলটি সামনে এগিয়ে যেতে চায়, কিন্তু দড়ি তাকে কেন্দ্রের দিকে টানে। মহাকাশে অবশ্য কোনো দড়ি নেই; সেখানে মহাকর্ষই প্রয়োজনীয় টান তৈরি করে।
☀️ বেশিরভাগ গ্রহাণু মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝামাঝি অঞ্চলে থাকা প্রধান গ্রহাণু বলয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। তবে সব গ্রহাণু সেখানে সীমাবদ্ধ নয়; কিছু গ্রহাণুর কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছিও আসতে পারে।
বৃহস্পতি ও অন্যান্য গ্রহের মহাকর্ষও গ্রহাণুর গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কোনো গ্রহাণুর কক্ষপথে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
সহজভাবে বললে, গ্রহাণুগুলো তাদের গতির কারণে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে এবং সূর্যের মহাকর্ষ তাদের পথ বাঁকিয়ে দেয়—এই কারণেই তারা কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।
আরও পড়ো:
গ্রহাণু ও উল্কার মধ্যে পার্থক্য কী?
গ্রহাণু কী? পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণুর সংঘর্ষ কতটা বিপজ্জনক?
উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে পড়লে কী ঘটে?

Comments (0)
Login to comment.