জীবের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াকে কেন অভিযোজন বলা হয়?
একই পৃথিবীতে মরুভূমি, বরফে ঢাকা অঞ্চল, গভীর সমুদ্র ও ঘন জঙ্গলের মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ রয়েছে। এসব জায়গায় বসবাসকারী জীবগুলোর শরীর, আচরণ ও জীবনযাপনের ধরনও একে অপরের থেকে অনেক আলাদা। কিন্তু তারা যে পরিবেশে থাকে, সেখানে টিকে থাকার জন্য কীভাবে নিজেদের উপযোগী করে নেয়?
জীব ও পরিবেশের সম্পর্ক নিয়ে আরও জানতে পড়ো:
🦎 উত্তর:
জীব কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকা, খাদ্য সংগ্রহ, শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এবং বংশবিস্তার করার জন্য উপযোগী বৈশিষ্ট্য অর্জন করলে বা সেই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্মে টিকে থাকলে তাকে অভিযোজন (Adaptation) বলা হয়।
🌵 মরুভূমির উদ্ভিদ: ক্যাকটাসের মতো উদ্ভিদের পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়েছে এবং কাণ্ডে পানি জমা রাখতে পারে। এতে শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকা সহজ হয়।
🐪 উট: উট মরুভূমির পরিবেশে চলাফেরা ও দীর্ঘ সময় কম পানি নিয়ে টিকে থাকার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত।
🐧 মেরু অঞ্চলের প্রাণী: পেঙ্গুইনের দেহে চর্বির স্তর ও ঘন পালক ঠান্ডা পরিবেশে শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
🦉 আচরণগত অভিযোজন: শুধু শরীরের গঠন নয়, কোনো কোনো জীবের আচরণও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কিছু প্রাণী শীতকালে অন্য এলাকায় চলে যায়।
অভিযোজন সাধারণত একটি প্রাণী নিজের ইচ্ছায় কয়েক দিনে শরীরে নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরি করে ফেলার ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে বংশগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো পরিবেশে উপযোগী বৈশিষ্ট্য একটি প্রজাতির মধ্যে বেশি দেখা দিতে পারে।
তাই সহজভাবে বললে, কোনো পরিবেশে টিকে থাকার জন্য জীবের গঠন, শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য বা আচরণে যে বংশগত উপযোগিতা গড়ে ওঠে, সেটিই অভিযোজন।
আরও পড়ো:

Comments (0)
Login to comment.