ধাঁধার বাক্স
রাহাত অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। একদিন স্কুল ছুটির পর সে পুরোনো লাইব্রেরির পেছনে একটি ছোট কাঠের বাক্স খুঁজে পেল। বাক্সটির গায়ে লেখা ছিল, “তিনটি ধাঁধার উত্তর দাও, তবেই বাক্স খুলবে।”
প্রথম ধাঁধা ছিল,
“যত কাটবে, তত বড় হবে। সেটা কী?”
রাহাত কিছুক্ষণ ভেবে বলল, “গর্ত।”
সঙ্গে সঙ্গে বাক্সের একটি তালা খুলে গেল।
দ্বিতীয় ধাঁধা ছিল,
“মুখ আছে, কথা বলে না। হাত আছে, কাজ করে না।”
রাহাত হাসল। “ঘড়ি!”
আরেকটি তালা খুলে গেল।
শেষ ধাঁধায় লেখা ছিল,
“এমন কী জিনিস, ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে?”
রাহাত অনেকক্ষণ ভাবল। তারপর তার মনে পড়ল শিক্ষক বলেছিলেন, জ্ঞান যত ভাগ করা যায়, ততই বাড়ে।
সে বলল, “জ্ঞান।”
খট করে বাক্সটি খুলে গেল।
ভেতরে সোনা বা টাকা ছিল না। ছিল একটি পুরোনো বই এবং ছোট একটি চিঠি।
চিঠিতে লেখা ছিল,
“যে ধাঁধার উত্তর খুঁজতে শেখে, সে জীবনের সমস্যার উত্তরও খুঁজে পায়।”
রাহাত বইটি বুকে নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটল। সেদিন থেকে সে শুধু বই পড়ত না, প্রতিটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করত এবং উত্তর খুঁজত।
কয়েক মাস পর স্কুলের কুইজ প্রতিযোগিতায় রাহাত প্রথম হলো।
পুরস্কার নেওয়ার সময় তার মনে পড়ল সেই রহস্যময় বাক্সটির কথা।
সে বুঝতে পারল, বাক্সের আসল উপহার বইটি ছিল না। আসল উপহার ছিল চিন্তা করতে শেখা।

Comments (0)
Login to comment.