Stories
18 Aug 2026, 12:32 AM
Story

বাঁশের সেতুর ওপারে

গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি সরু বাঁশের সেতু ছিল। সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট একটি খাল। বর্ষাকালে খালের পানি ফুলে উঠলে গ্রামের অনেকেই সেতুটি পার হতে ভয় পেত।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরমান প্রতিদিন ওই সেতু পার হয়েই স্কুলে যেত। একদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় সে দেখল, সেতুর ওপারে একটি ছোট ছেলে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।

আরমান কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কাঁদছ কেন?”

ছেলেটি বলল, “আমার মা অসুস্থ। পাশের গ্রাম থেকে ওষুধ এনেছি। কিন্তু সেতু পার হতে খুব ভয় লাগছে।”

আকাশে তখন কালো মেঘ। বাতাসও বাড়ছিল।

আরমান জানত, একটু পরেই বৃষ্টি নামতে পারে। সে ছেলেটির হাত ধরে বলল,
“ভয় পেও না। ধীরে ধীরে আমার সঙ্গে এসো।”

দুজন সাবধানে সেতুতে উঠল।

হঠাৎ মাঝপথে একটি বাঁশ কেঁপে উঠল। ছেলেটি ভয়ে চিৎকার করে আরমানের হাত শক্ত করে ধরল।

আরমান নিজেও ভয় পেয়েছিল। তবু বলল,
“নিচে তাকাবে না। সামনে তাকাও।”

ধীরে ধীরে তারা সেতু পার হয়ে গেল।

ওপারে পৌঁছাতেই বৃষ্টি শুরু হলো।

ছেলেটি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলল, “ভাইয়া, তুমি না থাকলে আমি হয়তো যেতে পারতাম না।”

আরমান হাসল। তারপর ছেলেটিকে তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিল।

বাড়িতে গিয়ে দেখল, ছেলেটির মা সত্যিই জ্বরে কাতর হয়ে শুয়ে আছেন। ওষুধ পেয়ে তিনি আরমানের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

“বাবা, আজ তুমি শুধু আমার ছেলেকে সেতু পার করোনি। তুমি আমার দুশ্চিন্তাটাও পার করে দিয়েছ।”

বাড়ি ফেরার পথে আরমান আবার সেই বাঁশের সেতুর সামনে দাঁড়াল।

সেতুটি আগের মতোই সরু এবং নড়বড়ে।

কিন্তু আজ তার কাছে সেতুটিকে অন্য রকম মনে হলো।

সে বুঝল, সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয়। ভয় থাকা সত্ত্বেও কারও পাশে দাঁড়িয়ে সঠিক কাজটি করাই আসল সাহস।

◉ 10 views · ♥ 0 · 💬 0 · ↗ 0

Comments (0)

No comments yet.

Login to comment.