সত্যিই কি কেউ কাউকে চিনে নিতে পারে?

অনেকটা পথ হেঁটে এসে একদিন মনে হয়েছিল,
পৃথিবীর এই ভিড় আর কোলাহলের ভেতর
সত্যিই কি কেউ কাউকে চিনে নিতে পারে?
তারপর হঠাৎ এক বিকেলে, যখন চারপাশ ধূসর হয়ে আসছিল,
তুমি এসে দাঁড়ালে—খুব সাধারণ, অথচ খুব চেনা মানুষের মতো।
প্রেম কোনো মহাকাব্যের নাম নয়,
না কোনো দূর নক্ষত্রের আলো।
সে তো শীতের সন্ধ্যায় এক কাপ চায়ের ওপারে বসে থাকা,
বাতাসে চঞ্চল হয়ে ওঠা তোমার অবাধ্য কয়েকটা চুল,
আর সামান্য একটু নীরবতা—
যেখানে কোনো কথা না বললেও সমস্ত ক্লান্তি মুছে যায়।
আমি কত ভুল করেছি, কত পথ হারিয়েছি একলা জীবনে,
হৃদয়ের ভেতর জমিয়ে রেখেছি না-বলতে পারা দীর্ঘশ্বাস।
তবুও যখন আমার রুক্ষ হাতদুটো তোমার নরম আঙুল ছুঁয়ে যায়,
তখন মনে হয়, এই পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া খুব বেশি মিথ্যে ছিল না।
আমরা তো নশ্বর মানুষ—একদিন সব আলো নিভে যাবে,
একদিন এই শরীরের মায়াও শেষ হবে মাটির কোলে।
তবু যতদিন এই শ্বাস আছে,
দিনের সমস্ত ব্যস্ততা আর যন্ত্রণার পর
ঘরে ফিরে তোমার ক্লান্ত মুখের দিকে চেয়ে একটু থমকে দাঁড়ানো—
তার চেয়ে বড় আর কোনো আশ্রয় মানুষ কি কোনোদিন খুঁজে পেয়েছে?

Comments (0)
Login to comment.