হেমন্তের আকাশ

হেমন্তের আসমানে যখন রোদ ম্লান হয়ে আসে,
অনেক নদী আর বাবলা বনের ওপর ভেসে যায় শাদা মেঘের শরীর—
যেন দূর কোনো বিদিশার বন্দর ছেড়ে চলে যাওয়া নিঃশব্দ পালের নাও;
তারই ভেজা ডানায় আমি আজ বেঁধে দিলাম আমার শতাব্দীপ্রাচীন স্বপ্ন।
পৃথিবীর ধূসর ধুলো ছেড়ে তারা উড়ে গেল নীলিমার কিনারে,
যেখানে চিল আর শালিকেরা ফেরে না আর এই অপরাহ্ণে।
মেঘমালায় বসে আছো তুমি—কোনো এক বিলুপ্ত নক্ষত্রের দেশে,
হাতে তোমার শান্ত শিউলির আঘ্রাণ, চোখে অতল কুয়াশার মায়া।
যখন সেই শাদা মেঘের পাল তোমার নিঃসঙ্গ চিবুক ছুঁয়ে ভেসে যাবে,
একটু হাত বাড়িয়ে কুড়িয়ে নিও আমার খসে পড়া বিস্ময়গুলো;
যেন ঝরে যাওয়া চালতা পাতার মতো তারা হারিয়ে না যায়
অন্ধকার কোনো অতল ধানসিঁড়ির জলে।
আমরা জানি, এই মাটির পৃথিবীতে সব লেনদেন একদিন ফুরোয়,
মানুষের হৃদয়ে জমে থাকে কেবল ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস আর নিভৃত অন্ধকার।
তবুও আকাশের নরম তুলোর মতো সাদা প্রান্তরে
আমার বুকের না-বলা কথাগুলো কুড়িয়ে রেখো তোমার আঁচলে—
একদিন যখন পৃথিবীর সব আলো নিভে যাবে,
তখন সেই মেঘের নীড়েই হয়তো জেগে থাকবে
আমাদের এক অদ্ভুত, বিষণ্ণ রূপকথা।

Comments (0)
Login to comment.